ভাইয়া তারো আমাকে, আমি বেথা পাচ্ছি আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ভাইয়া তারো তুমি কি আমাকে মেলে (মেরে) ফেলবে মামনি আমাকে বাতাও নানু নানু।


পাঁচ বছরের ছোটো মেয়েটি চিৎকার করে কান্না করছে। বাড়ির সবাই ওর কান্না শুনে ছোটে আসে বাগানে। 


সাহেলা বেগমঃরাত কি হচ্ছে টা কি মেয়েটা তো মরে যাবে ছার ওকে ছার বলছি।


রাতঃছাড়বো না আমি ওকে আজ গলা টিপে মেরে ফেলবো ওর জন্য আমার বন্ধু কে আমি হারিয়েছি ওকে মেরে আমার বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিবো, ওকে আজ আমি মেরেই ফেলবো।

সাহেলা বেগম রাত কে জোড় করে ছাড়িয়ে আনে। 


আমেনা বেগমঃমেঘলা নানু তুই ঠিক আছিস ইস কি মারটা মেরেছে আমার নানু মনি কে গলাটা দাগ লাল হয়ে গিয়েছে রাত তুই কি পাগল হয়ে গিয়েছিস এইটুকু মেয়েকে এইভাবে গলা টিপে ধরতে পারলি তুই ওর মতো ছোট না দশ বছর তোর বুঝার মতো বয়স হয়েছে তোর। 


রাতঃ দিদুন আমি ওকে সত্যি মেরে ফলবো ওর জন্য আমার বন্ধু কে হারিয়ে ফেলেছি (কান্না করতে করতে) 


সাহেলা বেগমঃ রাত তুমি অনেক বার বেরেছো তোমার বাবা আজ আসুক বাড়িতে তোমার একটা ব্যবস্থা করতে হবে তা নাহলে তুমি কোন দিন মেঘলার র কোনো ক্ষতি করে দেও ঠিক নেই।

আমেনা বেগমঃহে বউ মা ঠিক বলেছো। 


মেঘলা কান্না করেই যাচ্ছে তার কান্না যেনো থামছে না, তার রাত ভাইয়া তাকে মেরেছে রাত ভাইয়া তো আগে এমন ছিলো না ভাইয়া এখন খুব পচা হয়ে গিয়েছে আমাকে শুধু মারে বকে। 


আম্মুও আমাকে ছেরে চলে গিয়েছে নানু মনি বলে আম্মু আকাশের তারা হয়ে গিয়েছে। 


আর কান্নায় ভেংগে পারে পাঁচ বছরের ছোটো শিশু মেঘ। 


~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~


মেঘ আজ ও কাঁদছে ১২ বছর আগের কথা মনে করে। সেই দিন ছিলো রাত এর সাথে শেষ দেখা এবং রাত এর থেকে শেষ মার খাওয়া। 


সেইদিন এর পর থেকে আর রাত ভাইয়া কে দেখতে পাই নি আমি এতো বছর হয়ে গিয়েছে। 

আগামীকাল ১২ বছর পরে ভাইয়া দেশে ফিরছে। 


তার দেশে আসার কথা শুনেই মনে পরে গেলো সেই ১২ বছর আগের কথা। হে রাত ভাইয়া কে সে দিন মামা খুব বকেছিলো তারপর ভাইয়ার নানু বাড়ি পাঠিয়ে দেয় আর সেখান থেকে ভাইয়া পারি জমায় আমেরিকা। 


আমি একা হয়ে যাই রাত ভাইয়া ছিলো আমার একমাত্র খেলার সাথী


, আমি যদি বেথা পেতাম আমার যতটা কষ্ট আমার হতো তার থেকে মনে হতো রাত ভাইয়া কষ্ট পেতো। এতো ছোট বেলার কথা মনে নেই কিন্তু নানুর মুখে শুনতাম। 


আমার যখন ৩ বছর তখন মা আমাকে ছেড়ে চলে যায়, বাবা আমাকে রেখে যায় নানু মনির কাছে, বাবা আমাকে মাঝে মাঝে দেখে চলে যেতো, আমি এতো অসহায় যে মা বাবার কারো আদরি পেলাম না। 


আমি মেঘলা ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাত্রী। আর রাত ভাইয়া আমার মামাতো ভাই আমি ছোট থেকে মামা বাড়ি বড় হয়েছি 

কারন আমার বাবা মা নেই। কিন্তু কখনো মা বাবার অভাব বুজতে দেয় নি আমার মামা, মামি আর আমার কলিজার নানু মনি খুব ভালোবাসে আমাকে।


রাত ভাইয়া চলে যাওয়ার পর আমি খুব একা হয়েছে গিয়েছিলাম তারপর আমার যখন আট বছর তখন চলে আসে আমার ছোট মামনি। 


যে আমাকে নিজের মেয়ের মতো করে বড় করে। 


সবার ভালোবাসা পেয়েও কেনো জানি একটা শূন্যতা বিরাজ করে আমার মাঝে।


আমার যখন ৪ বছর ১১ মাস বয়স তখন আমি নানা ভাই আর রাত ভাইয়ার সাথে রাস্তায় ঘোড়তে যাই।আমি তখন খুব ছোটো এক বেলুন ওয়ালা মামাকে দেখে তার পিছু ছুটি।


 হটাৎ একটা ট্রাক আমার দিকে দেয়ে আসছে আমি ছুটছি আমার মতো।


একটা সময় খুব জোরে শব্দ হয় আমি ছিটকে পরি রাস্তার এক পাশে মাথায় খুব বেথা পাই একটু কেটেও গিয়েছে। 


হটাৎ রাত ভাইয়ার মুখে চিৎকার শুনি বন্ধু চিৎকার টা খুব জোরে আসেপাশের সব মানুষ ছোটে যায় রাত ভাইয়ার পিছু,,,,,,,


চলবে, 


#মনের_মতো_মন

#লেখিকাঃতোয়া_ইসলাম 

#পার্টঃ১