#মনের_মতো_মন

#লেখিকাঃতোয়া_ইসলাম 

#পার্টঃ২


হটাৎ রাত ভাইয়ার চিৎকার শুনি বন্ধু বলে রাত ভাইয়া চিৎকার দিয়ে রাস্তার দিকে ছোটছে আর রাত ভাইয়ার পিছু আসে পাশের লোক।


বন্ধু বন্ধু কি হয়ে গেলো তোমার বন্ধু কত রক্ত  ঝরছে প্লিজ কেউ আমার বন্ধু কে বাঁচান রাত ভাইয়া কান্না করছে আর কথা গুলো বলছে।


__আমি বেথায় যেখানে ছিটে পরেছি সে খানে বসে কান্না করছি। 

কিছু মানুষ নানা ভাই কে হসপিটাল এ নিয়ে গেলো আমি ঠিক একি জায়গায় বসে আছি।


হে আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার নানা ভাই এর মৃত্যু হয় সে দিন। নানা ভাই রাত ভাইয়ার সব থেকে কাছের মানুষ ছিলো নানা ভাই কে অনেক বেশি ভালোবাসতো রাত ভাইয়া,যদি কেউ বলে তোমার জীবন এর বদলে তোমার দা ভাই বেঁচে থাকবে রাত ভাইয়া তাই করতে রাজি ছিলো তার বন্ধুর জন্য,আর সে বন্ধুর আমার জন্য মৃত্যু হয়, এর পর থেকে রাত ভাইয়া আমাকে সয্য করতে পারে না।


তিন্নি বেগমঃ মেঘলা এই মেঘলা কিরে তুই সেই কখন থেকে ছাদে এসেছিস এখোনো নামার নেই (তিন্নি আমার ছোটো মামনি রাত ভাইয়া চলে যাওয়ার পরে তন্নি মামনি আমার সব থেকে কাছের মানুষ) 


মামনির কথায় আমি ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে আসলান। 

চোখের পানি মুছে নিলাম কারন মামনি যদি দেখে আমার চোখে জল তো হাজার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। 


আমি মামনির ডাকে সারা দিলাম।

এই তো মামনি আসছি। 

তিন্নি বেগমঃ সন্ধ্যা হচ্ছে আয় নিচে তোর নানু মনি ডাকছে।

মেঘলাঃ আসছি মামনি।


সন্ধ্যায় পাখি দের আনা গুনা সূর্য মামা রক্তিম রং ধারন করেছে, তার যাওয়াার সময় হয়ে গিয়েছে, সে চলে যাবে তার গন্তব্যে,কোলাহল শহর আস্তে আস্তে শান্ত হতে যাচ্ছে, চারো দিকে আজান এর ধ্বনি বেজে উঠছে। 


রুমে এসে ওজু করে নামাজ পড়ে নানু মনির কাছে গেলাম।


কি করছো নানু(নানুর কোলে মাথা রেখে)

এইতো বসে আছি তুই কোথায় ছিলি সারা বিকেল(আমার মাথায় হাত বুলিয়ে) 

____ছাদে ছিলাম নানু ভালো লাগছিলো না তাই।


_____কেনো তোর শরিল খারাপ নাকি কি হয়েছে বোন?


_____কিছু হয় নি নানু এমনি একটু সময় কাটালাম। চলো তোমাকে ড্রয়িং রুমে নিয়ে যাই। 


____হে চল নানু ভাই একটু চা খবো কোন দিন তোর নানা ভাই এর কাছে চলে যাই।


---নানু (একটু দমক এর স্বরে চোখে পানি ছলছল করছে) 


___আরে পাগলি মেয়ে এমনি বললাম চল নানু ভাই।


আমি নানুকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে এসে বসি। 


সাথে আমার বিচ্চু দুইটা 

আলিফ আর তোয়া 


ছোটো মামার ছেলে মেয়ে আট বছর তৃতীয় শ্রেণিতে পরে।


সাহেলা বেগমঃকি রে মেঘ মা তোর কি শরিল ভালো না। 


---হে মামনি ভালো কিন্তু কেনো বলো তো।

----তোর চোখ মুখ কেমন যেনো ফেকাসে লাগছে।


_____না মামনি আমি ঠিক আছি (একটা হাসি দিয়ে) 


তিন্নি মামনি চার কাপ চা এবং আলিফ তোয়ার জন্য দুধ এনে আমাদের পাশে বসলো। 


মামনি মামারা আসে নি এখনো। 


____না কাল রাত আসবে এতো বছর পরে তাই আগামীকাল অফিস যাবে না। কত বছর পরে আমার ছেলেটা আসবে (একটু মন খারাপ করে)


___রাত ভাইয়ার নামটা শুনে বুকের ভিতর মোচর দিয়ে উঠলো।


আমার জন্য এই মানুষ টা ছোটো থেকে সবার থেকে দূরে থাকে।


সবার সাথে কথা বলে মামারা আসলে ডিনার করে রুমে চলে আসি।


বারান্দায় বসে আছি, আজ কেনো জানি ঘুম পাচ্ছে না। 


চাদের আপছা আলো এসে আমার গায়ে পড়ছে। 


চারো দিক স্তব্ধ পরিবেশ বাগানে গাছ গুলো বাতাসে হালকা দোল খচ্ছে।


আচ্ছা রাত ভাইয়া দেখতে কেমন হয়েছে নিশ্চয় অনেক সুন্দর স্মার্ট কারন ভাইয়া তো ছোট বেলা থেকেই কিউট এর বস্তা।

ভাবতেই ঠোঁটের কোনে একটু হাসি ফুটে উঠলো।


------------------------


সকালে,


বড় মামনি আর ছোট মামনি খুব ব্যস্ত রান্না বান্না নিয়ে আজ সবার পড়াশোনা বন্ধ মামা বারন করছে আজ কারো স্কুল বা কলেজে যেতে হবে না। 


বড় খালা মনি ছোট খালামনি এসেছে একটু আগে।


মামা আসতে বলেছে কারন বড় মামা আজ অনেক খুশি তার ছেলে আসছে 


বড় মামা ছোট মামা দুজন ভাইয়া কে রিসিভ করতে গিয়েছে। 


আমি আলিফ আর তোয়ার সাথে বসে বসে গল্প করছি


আলিফঃআচ্ছা আপু রাত ভাইয়া ছোটো বেলায়  কেমন ছিলো??


আলিফ এর কথায় আমি আলিফ এর দিকে তাকাই। 


রাত ভাইয়া দেখতে খুব সুন্দর ছিলো একদম একটা টমেটোর মতো।


বলে আমি হেসে দেই। 


নীলাঃকিরে মেঘলা হাসছিস কেনো?(খালতো বোন আপু  রাত ভাইয়া এক বছর এর বড়)


____এমনি আপু বসো কত দিন পরে আসলে। 


নিলাঃহে রাত এর জন্য আসা সেই ছোট বেলায় দেখেছি এখন কেমন হয়েছে কে জানে।


আমার বুক টা কেমন যেনো দরফর করছে, খুব ভয় কাজ করছে রাত ভাইয়া কি আদো আমার সাথে কথা বলবে নাকি বলবে না। 


নিলয়ঃকিরে  পেত্নি কি ভাবছিস( নীলা আপুর ভাই ও আর আমি এক সাথে পরি কিন্তু ও গ্রামের কলেজে কারন নীলা আপুরা গ্রামে থাকে)


তোর  বউ পেত্নী কুত্তা আমি কি ভাবছি তকে বলবো কেনো?


নীলয় কিছু বলতে যাবে তখনি গাড়ির হর্ন বেজে উঠে বুঝতে পারলাম রাত ভাইয়া চলে৷ এসেছে। 


আমার হাত পা কাপছে হার্ট দ্রুত গতিতে চলছে মনে হচ্ছে আমি হার্ট ফেল করবো।।


বড় মামনি দরজা খোলে দিলো আমি চুপটি মেরে সোাফায় বসে আছি নীলা আপু, নিলয়,ছোটো খালামনি, বড় খালা মনি বাড়ির সবাই রতা ভাইয়ার দিকে এগিয়ে গেলো,আমি রাত ভাইয়ার দিকে তাকাতেই পারছি না কেমন যেনো লজ্জা লাগছে,।


কিন্তু মামনি আর নানু মনির কান্না শুনে তাকাতেই আমি ফিদা হয়ে গেলাম।


রাত ভাইয়া নানু আর বড় মামনি কে দু জন কে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে রেখেছে। 


ভাইয়া সেই ছোটো বেলার মতো দবদবে সাদা ঠোঁট জোড়া একদম গোলাপি, চুল গুলা সিলকি, ব্লাক শার্ট ব্লাক পেন্ট,বুকে শার্ট এর মাঝে একাটা ব্লাক ব্রান্ডের চশমা জুলিয়ে রেখেছে এক কথায় অসাধারণ লাগছে আমি চোখ ফেরাতে পারছি না এ আমার রাত ভাইয়া কিন্তু ছোটো বেলার মতো গুলোমুলো না পারফেক্ট বডি হয়তো জিম করে। 


ফুপি তোমরা কেমন আছো (রাত ভাইয়ার কথায় আমার ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে আসলাম) 


মামনি আর নানু একটু আগে কান্না করলেও এখন তারা খুব খুশি রাত ভাইয়া সবার সাথে কথা বলছে শুধু আমি ছাড়া হয়তো আমাকে এখোনো চোখে পরে নি।


আলিফ,তোয়া,রাহাত ভাইয়াকে ঘিরে ধরেছে ভাইয়াও অদের আদর করছে।


নিজের কাছে কেমন যেনো একা লাগছে সবাই রাত ভাইয়া কে নিয়ে ব্যস্ত আমার কথা হয়তো সবাই ভুলে গিয়েছে তাই খুব খারাপ লাগলে তাই সবাইকে আরাল করে নিজের রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিলাম।


রাতঃকিরে নীলা আপু তুই দেখি বুড়ি হয়ে গিয়েছিস।


নীলাঃআমাকে তোর বুড়ি মনে হলে কোন দিক দিয়ে বুড়ি মনে হলে আমাকে হুম আর তুই আমাকে আপু বলিস কবে থেকে?


রাতঃআজ থেকে শুরু করলাম যেহেতু এক বছর এর বড় তুই আমার (বলে হাহাহাহা করে হেসে দিলো)


নীলা আপুও ভাইয়ার সাথে হাসলো। 


রাতঃ কিরে নীলয় কত বড় হয়ে গিয়েছিস? 


নীলয়ঃহে ভাইয়া আমার সাথে মেঘলাও বড় হয়ে গিয়েছে। 


মেঘলা নাম টা শুনে রাত এর  মুখ থেকে হাসি চলে গেলো মুখটা গোমরা হয়ে গেলো।


নীলা বুঝতে পারলো।


রাত যা ফ্রেশ হয়ে নে সবাই একা সাথে দুপুর এর খাবার খাবো।


সাহেলা বেগমঃনীলয় রাত এর রুমে নিয়ে যা। 


নীলয়ঃহে ভাইয়া আসো। 


নীলয় আর রাত উপরে চলে যায়।


রাত এ বাড়িটা আগে দেখে নি ও আমেরিকা যাওয়ার পরে মামারা এই বাড়িতে উঠে, এর আগে আমারা সবাই গ্রাম এ থামতাম নানা ভাই নেই আর ব্যবসার জন্য মামারা চলে আসে শহরে।

তাই ভাইয়া এই বাড়ির কোনো জায়গাই চিনে না।


নানু মনি বসে আছে, মামনিরা খবার টেবিলে এনে রেখেছে আজ অনেক কিছু রান্না হয়েছে রাত ভাইয়ার জন্য সব রাত ভাইয়ার পছন্দের খাবার


নিচে সবাই কত খুশি আর আমি রুমে বসে আছি কেউ আমার খোজ ও নিচ্ছে না, তাই রাগ করে সাওয়ার এ চলে গেলাম।। 


রাতও ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে এসে বসলো। 


কত বছর পরে আম্মু তোমার হাতের খাবার খবো (রাত)


সাহেলা বেগম ছেলের মাথায় হাত ভুলিয়ে মন বরে খা বাবা এখন থেকে প্রতি দিনি খেতে পারবি।


নানু মনিঃনীলা মেঘলা কোথায়? 

 

এতোসময় পরে মেঘলার কথা সবার মনে পরলো। 


রৌদ্র চৌধুরীঃহে আমার মেঘলা মা কোথায়? (রাতের বাবা)


তিন্নি বেগমঃ মেঘলা মেঘলার রুমে আছে দা ভাই। 


রৌদ্র চৌধুরীঃনীলয় মেঘলা কে ডেকে নিয়ে আয়।


সবাই বুঝতে পারছে মেঘলা রাত এর জন্য এইখানে নেই।


নিলয় মেঘলাকে ডাকতে যায়।


মেঘলা সাওয়ার নিয়ে চুল ছেরে বেলকুনিতে বসে আছে।


নিলয় মেঘলা কে রুমে না পেয়ে বেলকনিতে গিয়ে দেখে মেঘলা বসে আছে। 


এই পেত্নী তোকপ নিচে ডাকছে চল।


মেঘলা তুই যা আমি যাবো না


মামা ডেকেছে তাড়াতাড়ি আয়।


মামার কথা শুনে উঠে নিলয় এর সাথে যেতে লাগলাম।


রাত খাচ্ছিলো হটাৎ সিরির দিকে তাকাতেই রাত থমকে গেলো।


চলবে,


(ভুল ত্রুটি মাফ করবেন)